সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন
Title :
পেকুয়ায় সীমানা প্রাচীর গুড়িয়ে জায়গা দখল চেষ্টা, থানায় জিডি শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে বাংলাদেশ: কুতুপালং পার্শ্বে ট্রানজিট ক্যাম্পে হস্তান্তর পেকুয়ায় পিটিয়ে অন্ত:স্বত্তা নারী আহত চকরিয়ায় মালিকানাধীন সেচ স্কীমের জমিতে জোরপূর্বক পানি ঢুকানোর অভিযোগ চকরিয়া বন্ধুসভার নতুন কমিটি ভালো কাজের সঙ্গে থাকার শপথ নাইক্ষ‍্যংছড়ির তমব্রু সীমান্তে থেকে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরিত প্রক্রিয়া শুরু ঘুমধুমে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশি সিগারেট ক্যান বিয়ার জব্দ বীর বাহাদুরকে ৭মবারের মতো জয়ী করতে হবে-কৃষকলীগের অভিষেক অনুষ্ঠানে বক্তাতারা নাইক্ষ‍্যংছড়ির তমব্রু সীমান্ত পরিদর্শনে বিজিবির মহা পরিচালক নাইক্ষ্যংছড়ি কলেজের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন
বিজ্ঞাপন

পেকুয়ায় রাজাখালীতে কোটি টাকা মূল্যের সরকারী জায়গা জবর দখল মহোৎসব

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৭৭ Time View

পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় রাজাখালী ইউনিয়নে চর দখলের মহোৎসব চলছে। কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২ একরের বেশী ডেপুটি কমিশন (ভূমি) মালিকানাধীন আরবশাহ নদীর জেগে উঠা চর বেহাত হচ্ছে সরকার থেকে। এ দিকে প্রায় ২ একর সরকারী মালিকানাধীন জমি জবর দখলে নিতে একটি শক্তিশালী চক্র মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ওই চক্র সরকারী কোটি টাকা মূল্যের জায়গাটি জবর দখলে নিতে শুরু করেছে দখল প্রক্রিয়া। এতে করে দখলবাজ চক্র ও স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে চরম দ্বন্ধের সুত্রপাত হয়েছে। আধিপত্যকে কেন্দ্র করে লবণ চাষী ও দখলবাজ চক্রের ভাড়াটে দুবৃর্ত্তদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চরের জায়গা দখল ও বেদখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষ মুখোমুখি নিয়েছে। স্থানীয়রা শংকা প্রকাশ করছেন এর সুত্র ধরে রাজাখালীতে দু’পক্ষের মধ্যে মারপিটসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা বিরাজ করছে। গত কয়েকদিন আগে থেকে রাজাখালী ইউনিয়নের মিয়াপাড়ায় প্রায় ২ একর সরকারী জায়গায় জবর দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, রাজাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও আরবশাহ বাজারের ব্যবসায়ী আবুল বাশার প্রকাশ বাবুর নেতৃত্বে একটি দখলবাজচক্র ওই কাজে যুক্ত হয়েছে। জায়গাটির স্থিতি অবস্থান রাজাখালী ইউনিয়নের মিয়াপাড়া পয়েন্টে। আরবশাহ বাজারের পূর্বদিকে লালজানপাড়া ব্রীজ অভিমূখী সড়ক সংশ্লিস্ট বেড়িবাঁধের লাগোয়া আরবশাহ নদীর জেগে উঠা চর। স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন জায়গাটি সরকারী সম্পত্তি। ডেপুটি কমিশন (ভূমি) নিয়ন্ত্রণাধীন এ জায়গা সরকারের ১ নং খাস খতিয়ানভূক্ত সম্পত্তি। গত ২ মাস আগে পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমা ও সহকারী কমিশন (ভূমি)সহ একটি টীম ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। সরকার প্রান্তিক জনগোষ্টীকে আশ্রয়ন সুবিধা নিশ্চিত করেছেন। মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে মিয়াপাড়া পয়েন্টে রাজাখালীতে সেখানে মুজিব বর্ষের জন্য ঘর নির্মিত হয়েছে। সরকারী মালিকানাধীন জমিতে ঘরগুলি নির্মাণ করা হয়। মুজিব বর্ষের ঘর বরাদ্দের সময় এর আগে জায়গা চিহ্নিত করা হয়। মিয়াপাড়া পয়েন্টে সরকারী ১ নং খাস খতিয়ানভূক্ত জায়গা চিহ্নিত করা হয়। ২ মাস আগে ওই জায়গায় সতর্কীকরণের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয় জায়গাটি জনস্বার্থে ব্যবহৃত হবে। সেখানে টাঙ্গানো হয় লাল পতাকা। চরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পুঁতে দেওয়া হয় লাল রং সম্বলিত কাপড় দিয়ে পতাকা। ওই অংশে সরকারী ঘর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন চলছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, লাল পতাকাসহ সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া জায়গা থেকে প্রায় ২ একর জমি বিএনপি নেতা আবুল বশর বাবু দখলে নিচ্ছেন। গত ১৫ দিন আগে থেকে সেখানে মাটি ভরাট কাজ চলমান আছে। ওই অংশে পাউবোর একটি ¯øুইচ গেইটও রয়েছে। ¯øুইট গেইটের দুই প্রান্ত পূর্ব ও পশ্চিম অংশে চলছে মাটি ভরাট কাজ। সরেজমিন পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখা গেছে, চর দখলের মহোৎসব চলছে রাজাখালীর মিয়াপাড়া পয়েন্টে। স্থানীয়রা জানান, বিএনপি নেতা আবুল বশর তার ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য নেজাম উদ্দিন নেজু এদের চাচাতো ভাই শফিউল আলম, ওসমানসহ একটি সিন্ডিকেট সরকারী জায়গা কুক্ষিগত করতে ঐক্যমতে পৌছে। তারা ওই জায়গা নিজদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্টা করতে সেখানে স্কেভেটর দিয়ে মাটি ভরাট কাজ অব্যাহত রাখেন। মাটি ভরাটসহ সেখানে বাঁশের টেংরার ঘেরাও দিয়ে ফেলেছে। সেখানে অস্থায়ীভাবে একটি কুড়েঁঘরও তৈরী করে ফেলেছে। বাঁশের ছালা পলিথিনের ছাউনিতে ওই কুঁড়েঘরটি মূলত জায়গাটি জবর দখলের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। জায়গাটির পূর্ব পাশে মুজিব বর্ষের বাড়ি নির্মাণকাজ চলমান আছে। এখন মুজিব বর্ষের ঘরের প্রায় ৫০% কাজ সমাপ্তি হয়েছে। জানতে চাইলে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও জায়গাটি জবর দখলে জড়িত আবুল বশর বাবু জানান, জায়গাটিতে আমরাই মাটি ভরাট করছি। কোন সমস্যা নেই জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এখানে তো প্রশাসন আছে। উনারা দেখতেছেন। ইউএনও, এসিল্যান্ড তো আছেন। রাজাখালী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো: ছৈয়দ নুর জানান, আমি চেয়ারম্যান থাকতে তারা সরকারী জায়গা জবর দখল করতে পারেনি। এ জায়গাটি শতভাগ সরকারী সম্পত্তি। পেকুয়া উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, আইনের প্রয়োগ না থাকলে সরকারী জায়গা প্রভাবশালীদের দখলে যাবে। আমি যে টুকু জানি জায়গাটি মুজিব বর্ষের ঘর নির্মাণের জন্য পরিমাপ করা হয়েছিল। সেখানে সীমানাও নির্ধারণ ছিল। এরপর শুনছি জায়গাটিতে জবর দখল চলমান আছে। ছিন্নমূল মানুষকে ঘরসহ পুনর্বাসন করা প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী উদ্যোগ। কিন্তু খাস জমি বেহাত হয়ে গেলে ওই প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমা জানান, আমি একটি প্রোগ্রামে আছি। এ সম্পর্কে পরে কথা বলবো। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: আমিন আল পারভেজ জানান, বিষয়টি আমি দেখবো। এ ধরনের সংবাদ দেওয়ার জন্য আমি সাংবাদিক ভাইদের ধন্যবাদ দিচ্ছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com