মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞাপন

পেকুয়ায় লবণ উৎপাদনে জমি তৈরীতে পুলিশের বাধা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩৮ Time View

পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় নদীর চরে জেগে উঠা সরকারী খাস জমি নিয়ে কৃষক ও জমিদারের মধ্যে দ্বন্ধ প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর জের ধরে ১ একর জমিতে লবণ উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। মাঠ তৈরী নিয়ে জমিদারপক্ষ ও লবণ চাষীর মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান দেখা দিয়েছে। ওই জমি থেকে কৃষককে হঠাতে জমিদার ভাড়াটে লোকজনও জড়ো করে। এমনকি ভীতি ও আতংক ছড়াতে সেখানে পাঠানো হচ্ছে দফায় দফায় পুলিশ। উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের নতুনঘোনায় জায়গা নিয়ে বিরোধ চলমান রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজাখালীতে ১ একরের বেশী লবণ চাষের জমি নিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপের বাসিন্দা হানিফ চৌধুরী ও রাজাখালীর নতুনঘোনার মৃত কালা মিয়ার পুত্র মাহামুদুল করিমের মধ্যে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়রা জানান, ওই জমি সরকারের ডেপুটি কমিশন (ভূমির) মালিকানাধীন সম্পত্তি। প্রবাহমান ভোলাখালের তীরবর্তী চরে জেগে উঠা সরকারী ওই জায়গা বিগত কয়েক বছর আগে উৎপাদন উপযোগী করা হয়। প্রতি বছর লবণ মৌসুমে চরের জায়গাটিতে লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে। জোয়ারের পানি ঠেকাতে সেখানে দেওয়া হয় রিংবাঁধ। রিংবাঁধ তৈরীতে চাষীকে ব্যয় করতে হয় ১ থেকে দেড় লক্ষ টাকা। বর্ষার সময় রিংবাঁধটি নদীগর্ভে প্রচন্ড ¯্রােতে বিলীন হয়। প্রতি বছর নতুন করে লবণ উৎপাদন সময়ে তৈরী করতে হয় জোয়ার ঠেকানোর বাঁধটি। চলতি বছরও মাহামুদুল করিম মাঠ উপযোগী করতে সেখানে রিংবাঁধ তৈরী করেন। গত কিছুদিন আগে থেকে সেখানে জমি তৈরীর কাজ চলমান রাখেন। এ দিকে গত ১ সপ্তাহ ধরে হানিফ চৌধুরী চরের জায়গা থেকে লবণ উৎপাদন না করতে মাহামুদুল করিমকে নিষেধ করছিলেন। এরপরও চাষী জমি তৈরীর কাজ চলমান রাখেন। এ দিকে চরের জমিতে চাষ না করতে বাধা আরো কঠোর হচ্ছে। সুত্র জানায়, গত ৫ দিনের ব্যবধানে নতুনঘোনায় ৩ দফা পুলিশ গিয়েছেন। পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক হেশাম উদ্দিন কয়েকদফা ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। মাহামুদুল করিমকে বিরোধী জমিতে লবণ চাষ না করতে বারণ করছিলেন। এ দিকে সরকারী জায়গায় লবণ উৎপাদনে বাধা দেওয়াসহ বল প্রয়োগের বিরুদ্ধে প্রতিকার পেতে চাষী মাহামুদুল করিম পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমার নিকট লিখিত অভিযোগ পৌছান। এ ব্যাপারে মাহামুদুল করিম বলেন, আমি চরমভাবে হয়রানি হচ্ছি। চরের জায়গাটি সরকারী। আমি রক্ষণাবেক্ষণসহ উৎপাদন উপযোগী করছি। ভোলাখালের চরে আছে শত শত লবণ চাষী। সেখানে উনারা করতে পারেন সরকারী জমির চাষ। আর আমি করলে পুলিশ গিয়ে বাধা দেয়। হানিফ চৌধুরীর খামার ভিটাটি আমি পাহারা দিচ্ছি। গত কয়েক বছর ধরে ওই খামারের নিরাপত্তার জন্য আমি পরিবার পরিজন নিয়ে থাকি। কথা ছিল খামার তদারকির জন্য আমাকে ৪ কানি জমি চাষ করতে দিবে। খাজনা মওকুফের কথা ছিল। কিন্তু প্রতি বছর ঠিকই ওয়াসিলা নিয়েছে। ৭/৮ মাস আগে খামার ভিটা থেকে আকাশমণি, ইউকিলিপটাস প্রজাতির গাছ বিক্রি করেছেন জমিদার। পেকুয়া বাজারের গাছ ব্যবসায়ী মদন সওদাগরকে গাছ বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এখন পুলিশকে বলছে আমি নাকি গাছ কেটে ফেলেছি। হানিফ মিয়ার খামারে একা থাকতে গিয়ে আমার হাফেজ কোরআনী হাফেজ পড়–য়া মেয়ে ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী জুবায়েদা জন্নাত (১২) মারা যান। বিলের নির্জন জায়গায় খামারটি। সেখানে ভয়ে মারা গেছে আমার মেয়ে। মাহামুদুল করিমের মা ফাতেমা বেগম জানান, আমার ছেলেকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে। স্ত্রী হোসনে আরা বলেন, আমরা এখন কোথায় যাবো। আগে যে ঘরটি ছিল সেটিও এখন আর নেই। ১ মাস সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটিও মানা হচ্ছে না। ইউপি সদস্য শওকত আরা শেফু বলেন, জায়গাটি চরের। সরকারী জায়গা। ইউপি সদস্য হোসাইন মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ জানান, বড় মানুষদের কাজ হচ্ছে চাষা প্রজাকে হয়রানি করা। মাহামুদুল করিমের বিষয়টি বাস্তব। এখন গরীব মানুষের কি বিচার আদালত আছে। এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে হানিফ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, আমি কাউকে হয়রানি করছি না। মাহামুদুল করিম এখন আমাকে হয়রানি করছে। আমি বলেছি আমার খামার বাড়ি ছেড়ে দিতে। সে না ছাড়ছে। আমি পুলিশের সহযোগিতার জন্য থানায় গিয়েছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com