মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞাপন

পেকুয়ায় নারী মাঠকর্মীকে চাকুরীচ্যুতের অভিযোগ এনজিও সংস্থার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২
  • ১০৬ Time View

পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় এনজিও সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশের মাঠকর্মীকে চাকুরীচ্যুত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উৎকোচ না পেয়ে কনিষ্ট নারী মাঠ কর্মীকে কর্মস্থল থেকে ছাঁটাই করলেন সংস্থাটির জৈষ্ট্য কর্মকর্তা। এতে করে ওই কর্মকর্তার এহেন কান্ডের বিরুদ্ধে নারী মাঠকর্মী কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি বিভাগের লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেন। এ দিকে এনজিও সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিমান উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম একটি ইউনিয়নে স্থবির হওয়ার মত উপক্রম দেখা দিয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিমান উন্নয়ন প্রকল্পের পেকুয়ায় জৈষ্ট্য কর্মকর্তা ও মাঠ কর্মীর দ্বন্ধের জের ধরে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নং পৃথক দুটি ওয়ার্ডে ৫ টি কেন্দ্রে গত দুই সপ্তাহ ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। কেয়ার বাংলাদেশের অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত মাঠকর্মীকে ছাঁটাই করে তার পরিবর্তে অপর একজনকে কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়। তবে নবাগত ওই কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজার (সিডিও)কে সুফলভোগীরা কেন্দ্রে ডুকতে দেননি। বিনা কারণ ও বিনা নোটিশে পূর্বের সিডিওকে চাকুরীচ্যুত করা হচ্ছে। এমন দৃষ্টিভঙ্গির প্রেক্ষিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিমান উন্নয়ন প্রকল্পের বেনিফিশিয়ারী (বিএনএফ)রা এর প্রতিবাদে একাট্টা হয়েছেন। সিডিও তছলিমা বেগমকে অপসারণের প্রতিবাদে রাজাখালীতে কেয়ার বাংলাদেশের উপকারভোগীরা প্রতিবাদ করছেন। তারা তছলিমা বেগমকে অহেতুক চাকুরীচ্যুত করার বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, খাদ্য ও নিরাপত্তা পুষ্টিমান উন্নয়ন (ইএফএসএন) প্রকল্পের আওতায় পেকুয়ায় কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অর্থায়ন করছেন ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম। কেয়ার বাংলাদেশ ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। পেকুয়া উপজেলায় ৪ টি ইউনিয়নে (ইএফএসএন) এর কার্যক্রম চলমান আছে। উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নে এনজিও সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশের বাস্তবায়নে ২৬ টি কেন্দ্র রয়েছে। এ সব কেন্দ্রের আওতায় বেনিফিশিয়ারীর সংখ্যা ৬৭৮ জন। নারীরাই উপকারভোগী হিসেবে তালিকাভূক্ত আছেন। প্রত্যেক উপকারভোগী খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিমান প্রকল্পের আওতায় প্রতিমাসে ১০৫০ টাকা করে ভাতা পেয়ে থাকেন। দারিদ্র বিমোচন ও স্বনির্ভর খাতে নারীদের স্বাবলম্বী করতেও প্রত্যেককে ১৮ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এ দিকে ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের ৫ টি কেন্দ্রে ১১৫ জন বেনিফিশিয়ারীদের নিয়ে ওই প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন তছলিমা বেগম। কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজার (সিডিও) হিসেবে তছলিমাকে প্রকল্পের শুরুতেই নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় তছলিমা দীর্ঘ ১৮ মাস চাকুরী করেন। কঠোর পরিশ্রম ও মেধার স্বাক্ষর রাখেন ওই নারী। দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে বেনিফিশিয়ারীদের কাছে তছলিমা বেশ প্রশংসিত হন। উপকারভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাংখার প্রতিফলন ঘটাতে তছলিমার প্রজ্ঞা ও সততাকে নারী উপকারভোগীরা সবচেয়ে বেশী আনন্দিত ছিলেন। সম্প্রতি ওই কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে তছলিমার সাথে কেয়ার বাংলাদেশের পেকুয়ার প্রজেক্ট কর্মকর্তা (ইউপি) মামুনুর রশিদের মধ্যে ¯œায়ুদ্বন্ধ দেখা দেয়। বিশেষ করে কর্মী ছাঁটাই নিয়ে বাকবিতন্ডা তৈরী হয়। মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বিনা কারণে পূর্বের নিয়োগপ্রাপ্ত মাঠকর্মীদের চাকুরীচ্যুত করেন। ওই পদে নতুন কর্মী নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা। তছলিমা বেগমকে অব্যাহতি দেওয়ার ইঙ্গিত করা হয়। এরপর দেন দরবার চলছিল। ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়। সহজ সরল তছলিমা চাকুরী বাঁচাতে দু’দফায় ৩৯ হাজার ২৫০ টাকা কেয়ার বাংলাদেশের দুই কর্মকর্তার হাতে তুলে দেন। এরই মধ্যে সংস্থাটির ইউপি মামুনুর রশিদকে দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অফিসের সজল নামের আরেক কর্মকর্তাকে দেন ১৯ হাজার ২৫০ টাকা। টাকাগুলি হাতে পেয়ে ওই দুই কর্মকর্তা তছলিমাকে চাকুরীর হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষরও করান। এ দিকে চলতি বছরের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত কেয়ার বাংলাদেশের সিডিও তছলিমা বেগম চাকুরীতে ছিলেন। হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষরও আছে। তবে ২০ অক্টোবরের পর থেকে আকষ্মিক সিডিও তছলিমার কাছ থেকে হাজিরা খাতায় দস্তখত দিতে বিরত রাখে। তছলিমাকে কেয়ার বাংলাদেশের পেকুয়া অফিসে ডাকা হয়। সেখানে তার কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলছিলেন ইউপি মামুন। তছলিমা সেখানে স্বাক্ষর দেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কেয়ার বাংলাদেশের ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পেকুয়ায় ভূয়া সার্টিফিকেট দিয়ে ২ জন চাকুরী করছে। শিলখালী ও রাজাখালীতে ২ জন সিডিও ফক্সি সনদ দিয়ে চাকুরী করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে রাজাখালীর ৪ নং ওয়ার্ডের রব্বতআলী পাড়া কেন্দ্রের বেনিফিশিয়ারী বুলবুল আক্তার, রায়বাপের পাড়া কেন্দ্রের শাহীন আক্তার, কুহিনুর আক্তার, পাপিয়া দলের সেক্রেটারী নাহিদা সোলতানা, কোষাধ্যক্ষ কুলসুমা বেগম, শালিক দলের বুলবুল আক্তার, কাউছারা, তাসমিন সোলতানা, টিয়ে দলের রুজিনা, কহিনুরসহ আরো অনেক বেনিফিশিয়ারীরা জানান, তছলিমা বেগম সিডিও হিসেবে অত্যন্ত সৎ। কেন্দ্র পরিচালনায় আমরা তছলিমাকে নিয়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। কিন্তু হঠাৎ তাকে নিয়ে এ ধরনের চিন্তায় আমরা হতভম্ব হয়েছি। ২০ হাজার টাকা মামুন ভাই নিয়েছেন। এরপর সজলও টাকা নিয়েছে। এ কেন্দ্রে তছলিমার পরিবর্তে আরেকজনকে পাঠিয়েছিল। আমরা মেনে নেয়নি। সিডিও তছলিমা জানান, আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মামুনুর রশিদ কেয়ারের সুনাম নষ্ট করেছে। আমার কাছ থেকে চাকুরীতে রাখার কথা বলে নিয়েছে ২০ হাজার টাকা। এরপর সজলকেও ১৯২৫০ টাকা দিয়েছি। আমি ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর কেয়ার বাংলাদেশের রামদাশ দাদাকে মামুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সেখানে অনিয়ম ও আমার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার কথা বলেছি। যৌন হয়রানির মতো দৃষ্টিভঙ্গির কথাও মামুনের বিরুদ্ধে আমি উল্লেখ করেছি। এ ব্যাপারে কেয়ার বাংলাদেশের পেুকয়া উপজেলা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, আসলে এটি অর্থ কেলেংকারীর বিষয়। তছলিমার বিষয়ে ঢাকা থেকে টীম এসেছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com