মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞাপন

পেকুয়ায় রাতেই ৩৫০টি সুপারীর চারা কেটে সাবাড় করল দুবৃর্ত্তরা

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২২
  • ৫৪ Time View

পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় গভীর রাতেই খামারীর রোপিত ৩৫০ টি সুপারীর চারা কেটে সাবাড় করা হয়েছে। ২৮ অক্টোবর (শুক্রবার) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের পন্ডিতপাড়ায় নুরুল আলমের বসতভিটায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ওই দিন গভীর রাতে পন্ডিতপাড়ায় নুরুল আলমের বসতভিটায় দুবৃর্ত্তরা হানা দেয়। এ সময় নুরুল আলমের বসতভিটায় রোপিত ৩৫০ টি উঠতি সুপারী গাছের চারা কেটে সাবাড় করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২০১৭ সালের দিকে নুরুল আলম পন্ডিতপাড়ায় ১ একর জায়গার উপর বসতভিটাসহ বাড়ি তৈরী করে। নুরুল আলম উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের বারাইয়াকাটার মৃত মজু মিয়ার পুত্র। ওই জায়গা নিয়ে বাঁশখালী পুঁইছড়ির বাচ্চু মিয়া গং ও নুরুল আলমের নানা আমিন শরীফ গংদের মধ্যে ৫০ বছর ধরে মামলা চলছিল। দেওয়ানী নিস্পত্তি শেষে আমিন শরীফ গংদের অনুকুলে রায় প্রচার হয়। এরপর থেকে জায়গাটি আমিন শরীফ গংদের অনুকুলে আসে। নুরুল আলমের মা রেজিয়া বেগমের প্রাপ্ত অংশসহ নুরুল আলম তার ৫ মামা থেকে সেখানে জায়গা খরিদ করেন। ওই জায়গায় ঘরভিটাসহ বসতবাড়ি তৈরী করে। নুরুল আলম এক সময় প্রবাসে ছিলেন। এরপর রাজধানী ঢাকায় পণ্যের ব্যবসা করতেন। তিনি শিক্ষিত যুবক। এখন দারিদ্র বিমোচন ও আত্মকর্মসংস্থান খাতে তিনি বিনিয়োগ করেছেন। বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য শিক্ষিত যুবক নুরুল আলম নিজ বসতভিটায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামার তৈরী করেন। উচ্চ ফলনশীল জাতের সবজি উৎপাদন, ৪ টি পুকুরে মাছ চাষ ছাড়াও গবাদীপশুর খামারও করেন তিনি। ১ একর আয়তন বসতভিটায় রোপণ করেন বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বাগান। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ওই বাগান থেকে ফল উৎপাদন, সবজি বিক্রি করে সংসার চালান। বসতবাড়ির পশ্চিম সীমানায় ৩৫০ টি সুপারীর চারা রোপণ করেন। গত ৪ মাস আগে চারাগুলি বাণিজ্যিকভাবে সৃজন করেন। কয়েকদিন আগে উঠতি সুপারীর চারাগুলোতে তিনি সার প্রয়োগ করেন। চারাগুলি ১ ফুট পর্যন্ত উচ্চতা হয়েছে। এ দিকে ওই দিন রাতে দুবৃর্ত্তরা নুরুল আলমের খামার ভিটা থেকে দুবৃর্ত্তরা ৩৫০ টি সুপারীর চারা কেটে ফেলেছে। এ ব্যাপারে পন্ডিতপাড়ার বাসিন্দা নুরুল কবির (৭৫) বলেন, খবর পেয়ে আমি নুরুল আলমের বাড়িতে এসেছি। এসে কাটা সুপারীর চারাগুলি দেখে আমি চোখের পানি ধরতে রাখতে পারেনি। এরা কি মানুষ নাকি পশু। একই নিয়মে চারাগুলি কেটে দেওয়া হয়েছে। এটি চরম শত্রæতামি। এ অন্যায়ের ক্লু বের হওয়া প্রয়োজন। সাদেকুর রহমান নামক ব্যক্তি জানান, নুরুল আলমের এ অগ্রযাত্রাগুলি দেশে দারিদ্র বিমোচনের জন্য অনুকরণীয়। কিন্তু শুরুতেই এমন নিষ্টুরতায় মানুষের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। আমি জড়িতদের খোঁজে বের করতে প্রশাসনকে অনুরোধ জানাবো। নুরুল আলমের মেয়ে ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী মাইসা আলম জানান, আমার মায়ের অশ্রæতে আমরা শোকার্ত হয়েছি। গাছগুলিতে আমি ও আমার মা কয়েকদিন পর পর পানি দিতাম। আগাছা পরিষ্কার করতাম। নুরুল আলম জানান, আমি এক সময় প্রবাসে ছিলাম। ঢাকায় ব্যবসাও করেছি। ছেলে-সন্তান ও এলাকার মায়া মমতায় আর কোথাও গিয়ে কিছু করতে মন বসেনা। বেকারত্ব দূরীভূত করতে নিজ বসতভিটাটিকে খামার হিসেবে রুপান্তর করেছি। এখানে সবজি চাষ, উচ্চফলনশীল জাতের ফল উৎপাদন, মৎস্য চাষ ও পশু পালন কাজে নিয়োজিত হয়েছি। বাড়ির পশ্চিম সীমানায় সুপারী গাছ রোপণ করি। আমি সকালে উঠে দেখে শুধু হার্টস্ট্রোক করেনি। মানুষ গাছের সাথে কিভাবে নিষ্টুরতা করে। আমার বাড়িতে এসে না দেখলে বিশ্বাস হবেনা। আমি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বিষয়টি বলেছি। নুরুল আলমের স্ত্রী আয়েশা ছিদ্দিকা জানান, আমার স্বামীর সর্বনাশ হয়েছে। কি নিষ্টুরতা। আমি সকালে দেখে কি পরিমাণ চোখ দিয়ে পানি গেছে একমাত্র নিয়তিই জানে। আমি এ বর্বরতার প্রতিবাদ জানাই। মানুষ নই যারা করেছে এরা নরপশু। হিংস্র প্রানীর চেয়ে ভয়ংকর। মুহাম্মদ বাবুল নামক ব্যক্তি জানান, খবর পেয়ে আমি পেকুয়া থেকে এখানে সকালে এসেছি। নুরুল আলম জাতীয় শ্রমিকলীগ পেকুয়া উপজেলা শাখার সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। আ’লীগের সম্মেলনে বারবাকিয়ায় কাউন্সিলারও ছিল নুরুল আলম। টইটংয়ের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, এটি বড় ধরনের দুশপনি। একটি পক্ষ জায়গাটি জবর দখল করতে চাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com